শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২০, ০৬:০৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
টাইগারদের মাঠে ফেরাতে দেশের আটটি ভেন্যু প্রস্তুত করেছে বিসিবি নগরকান্দার লস্করদিয়া কালীবাড়ী বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড নগরকান্দায় আইফার পক্ষ থেকে মাস্ক বিতরণ ফরিদপুরের শ্রমিকদের কল্যানে নিবেদিত প্রাণ গোলাম মোঃ নাছির সালথায় এক গাঁজা চাষী আটক! খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সহধর্মিণীর সুস্থতা কমনায় লন্ডনে দোয়া ও আলোচনা সভা। সালথায় “আমার রক্তে বাঁচুক প্রান” সেচ্ছায় রক্তদান সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের নগরকান্দার বাঁশাগাড়ি-ভবুকদিয়া দেড় কিলোমিটার সড়ক সংস্কারে ধীরগতি স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে এলাকাবাসী ও পথচারী সালথায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বৃদ্ধা মহিলার মৃত্যু সালথায় গৃহবধুর মৃতদেহ উদ্ধার স্বামী পলাতক

শক্তিশালী অবস্থানে আওয়ামীলীগ, নেতৃত্বের অভাবে দিশেহারা বিএনপি

ডেস্ক রিপোর্ট / ৪০ বার পঠিত
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২০

বিশেষ প্রতিবেদক #
ফরিদপুরের চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগের দখলে রয়েছে তিনটি। বাকি আসনটি পেয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থী। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির কোন প্রার্থী জয়ী হতে পারেনি। যদিও ভোটের দিন বেলা ১১টার সময় বিএনপির প্রার্থীরা ভোট বয়কট করার ঘোষনা দেয়। ফরিদপুর জেলায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনীতি চলছে নানা দোলাচালে। জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে ফরিদপুর সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগের মধ্যে তেমন কোন কোন্দল নেই। বাকি ৮টি উপজেলায় আওয়ামী লীগের কোন্দল রয়েছে চরমে। ফলে বিভিন্ন সময় কোন্দলের কারনে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটছে। ফরিদপুর জেলায় বিএনপির তেমন কোন কোন্দল না থাকলেও দীর্ঘদিন যাবত সম্মেলন না হওয়ায় এবং ক্ষমতার বাইরে থাকায় দলের নেতা-কর্মীরা নিস্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। হতাশার মধ্যে পড়েছে দলের নেতা-কর্মীরা। কেউবা চাপের মুখে কেউবা নিজেদের আখের গোছাতে হাত মিলিয়েছেন ক্ষমতাসীনদের সাথে। ফলে একসময় ফরিদপুর জেলা বিএনপির ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত থাকলেও সেই অবস্থা এখন আর নেই। ফরিদপুর জেলায় আওয়ামী লীগ এখন সংগঠিত। ফরিদপুর সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগ এখন বেশ সু-সংগঠিত। দলের বেশীর ভাগ নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ। এ আসনের সংসদ সদস্য, দলের উপদেষ্টা মন্ডলীর অন্যতম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের দিকনির্দেশনায় যে কোন সময়ের চেয়ে আওয়ামী লীগ এখন বেশ শক্তিশালী। সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের সব কয়টিতেই জাকজঁমকভাবে সম্মেলন হয়েছে এবং কমিটি করা হয়েছে। শুধু ইউনিয়ন পর্যায়েই নয়, ওয়ার্ড কমিটিও হয়েছে। এখন জেলা কমিটির সম্মেলন যে কোন সময় অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে জেলা পর্যায়ের নেতারা। ফরিদপুর সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগ সু-সংগঠিত ও শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও অন্য উপজেলার পরিস্থিতি ভিন্ন রকম। ৮টি উপজেলার বেশীর ভাগ উপজেলাতেই রয়েছে তীব্র কোন্দল। আর এ কোন্দলের কারনে মাঝে মধ্যেই হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটছে। ফরিদপুরের তিনটি উপজেলা যথাক্রমে বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও মধুখালী নিয়ে ফরিদপুর-১ আসন গঠিত। এরমধ্যে মধুখালীতে দুটি গ্রুপ বিদ্যমান রয়েছে। একদিকে সাবেক এমপি আব্দুর রহমান অন্যদিকে বর্তমান এমপি মনজুর হোসেন বুলবুলের পক্ষেকাজ করছে দুটি গ্রুপ। বোয়ালমারী উপজেলায় আওয়ামী লীগের তিনটি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। একদিকে রয়েছে সাবেক এমপি কাজী সিরাজুল ইসলাম ও সাবেক এমপি আব্দুর রহমানের অনুসারিরা, অন্যদিকে বর্তমান এমপি মনজুর হোসেন বুলবুলের পক্ষে কাজ করছে তাদের পক্ষের লোকজন। এছাড়া আরো ছোট কয়েকটি গ্রুপ এখানে বিদ্যমান রয়েছে। ফলে দলের মাঝে কোন্দল যে কোন সময়ের চেয়ে এখন বেশী। ফরিদপুর-১ আসনে আলফাডাঙ্গা উপজেলা সবসময়ই আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত। আওয়ামী লীগের দুঃসময়েও এখানে নৌকার প্রার্থীরা হারেনি। কিন্তু এবারই প্রথম এ উপজেলাতে কোন্দল ভয়াবহ রুপ নিয়েছে। ফলে উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদে নৌকার প্রার্থীদের ভরাডুবি হয়েছে। ফরিদপুর-১ আসনে দলীয় কোন্দলের কারনে দলের নেতা-কর্মীরা রয়েছে দিশেহারা অবস্থার মধ্যে। এ আসনটিতে কেন্দ্রীয় কমিটির বেশকিছু নেতাদের আধিপত্য থাকার কারনেই কোন্দল উস্কে উঠেছে বলে মনে করেন দলটির তৃনমূলের নেতারা। ফরিদপুর-২ আসনটি গঠিত নগরকান্দা ও সালথা উপজেলা নিয়ে। এ দুটি উপজেলাও আওয়ামী লীগে কোন্দল রয়েছে। নগরকান্দা উপজেলায় আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির সভাপতি-সাধারন সম্পাদককে বাদ দিয়ে সংসদ উপনেতার ছোট ছেলে শাহদাব আকবর লাবু চৌধুরীর মদদপুষ্ঠ নেতাদের নিয়েই চলছে এখানকার রাজনীতি। দলের একাংশের অভিযোগ, বিএনপি-জামাত থেকে আসা নেতাদের প্রাধান্য দিয়েই আওয়ামী লীগের কর্মকান্ড চালানো হচ্ছে। দলের ত্যাগী নেতাদের অবমূল্যায়ন করার অভিযোগ উঠেছে তৃনমূল নেতাদের তরফ থেকে। সালথা উপজেলায় দলের সাধারন সম্পাদককে বাদ দিয়ে ভারপ্রাপ্ত একজনকে দিয়ে দলের কর্মকান্ড চালানো হচ্ছে বলে বেশকিছু নেতা দাবী করেছেন। এখানেও ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে বিএনপি থেকে আসা নেতাদের নানা কর্মকান্ডে অগ্রভাগে রাখারও অভিযোগ রয়েছে। ফরিদপুর-২ আসনে সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর বড় ছেলে আয়মন আকবর বাবলু চৌধুরী দীর্ঘদিন এ আসনে রাজনীতির কলকাঠি নাড়লেও তাকে বাদ দিয়ে এখন আওয়ামী লীগের রাজনীতির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ছোট ছেলে শাহদাব আকবর লাবু চৌধুরীকে। ফলে দুই ভাইয়ের সর্মথকদের মধ্যে মাঝে মধ্যেই হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটছে। ফরিদপুর-৪ আসনটি যথাক্রমে ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ আসনে এমপি হিসাবে রয়েছেন বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য হিসাবে পরিচিত মজিবুর রহমান ন্সিন চৌধুরী। গত দুইবারের নির্বাচনে এ আসন থেকে পরাজিত হন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ। এ আসনের তিনটি উপজেলায় আওয়ামী লীগের রাজনীতি একদিকে নিয়ন্ত্রনে রেখেছেন কাজী জাফরউল্লাহ, অন্যদিকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্বতন্ত্র এমপি মজিবুর রহমান নিক্সন। তিনটি উপজেলায় আওয়ামী লীগের কোন্দল চরম আকার ধারন করেছে। আওয়ামী লীগের স্থানীয় বেশীরভাগ নেতা-কর্মীই রয়েছে স্বতন্ত্র সাংসদ মজিবুর রহমান নিক্সনের পক্ষে। ফলে তিনটি উপজেলাতেই দলের মধ্যে তীব্র কোন্দল রয়েছে। আর এ কোন্দলের কারনেই একাধিক বার দুইপক্ষের মাঝে সংঘর্ষেল ঘটনা ঘটেছে।
একসময় ফরিদপুর জেলায় বিএনপির শক্তিশালী ঘাঁটি ছিল। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগ পর্যন্ত ফরিদপুরে বেশ শক্তিশালী অবস্থানে ছিল বিএনপি। নির্বাচনের পর বিএনপির অবস্থা নাজুক হতে থাকে। কোন্দলের কারনে দলের শক্তিশালী অবস্থান কমতে থাকে। তাছাড়া দীর্ঘদিন ধরে দলের সম্মেলন না হওয়ায় হতাশা নেমে আসে দলের নেতা-কর্মীদের মাঝে। ফরিদপুর জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে কয়েকটি উপজেলায় দলের কোন্দল-গ্রুপিং রয়েছে। বর্তমানে দলীয় কোন্দল তেমন একটা জোরালো না থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্বের অভাবের কারনে দলটির নেতা-কর্মীরা এখন নিস্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। হাতে গোনা কয়েকজন নেতা দলীয় কর্মসূচি পালন করতে রাজপথে দেখা গেলেও তারা এখন মামলা-হামলার কারনে অনেকটা নিরব রয়েছেন। বিএনপির বেশ কয়েকজন ত্যাগী নেতা অভিযোগ করে বলেছেন, যোগ্য নেতৃত্বের অভাবের কারনেই বিএনপিকে আজ চরম মূল্য দিতে হচ্ছে। বিগত দিনে যারা রাজপথে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে নানা ঝামেলার মধ্যে পড়েছিল তাদের প্রতি কোন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেননি নেতারা। ফলে অনেকেই ক্ষোভ ও দুঃখ নিয়ে দলের কার্যক্রম থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছে। ফরিদপুর জেলা বিএনপির অবস্থা বর্তমানে যে কোন সময়ের চেয়ে খারাপ। দলটির জেলা সম্মেলন নেই বহু বছর। এছাড়া গত ৫ মাস আগে জেলা কমিটি বিলুপ্ত করা হলেও এখন পর্যন্ত নতুন কোন কমিটি গঠন হয়নি। সর্বশেষ বিলুপ্ত হওয়া ১৪১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির ১২ জন মারা গেছে। ২৬ জন নেতা দল ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। বাকি ৭০ ভাগ নেতা নিস্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। হাতে গোনা ১০/১৫ জন নেতা এখনও রাজপথে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। জেলার সব কয়টি উপজেলাতেই বিএনপির অবস্থা একেবারেই এলোমেলো। চারটি আসনে বিগত নির্বাচনের সংসদ সদস্য প্রার্থীরা এলাকাতেই থাকেন না। ফলে নেতা-কর্মীদের সাথে তাদের দুরত্ব বেড়েছে। অনেক নেতাই অভিযোগ করে বলেছেন, বড় পদে থাকা নেতারা তাদের কোন খোঁজ-খবর নেননা। অনেকেই ফোনটি পর্যন্ত ধরেন না। দীর্ঘদিন ধরে দলের সম্মেলন না হওয়ায় নেতা-কর্মীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। দলটির বেশীর ভাগ নেতা-কর্মীরা এখন একেবারেই নিস্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছেন। কয়েকজন নেতা নামপ্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, যারা আন্দোলন করতে গিয়ে হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন তারা এখন বেশ চাপের মুখে রয়েছেন। কোন কিছু হলেও এসব নেতাদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করা হয়ে থাকে। যে ১০/১৫ জন সক্রিয় নেতা রয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে শতাধিক। ফলে এসব নেতারা বর্তমানে পুলিশের হয়রানীর ভয়ে বাড়ীতেও থাকতে পারছেন না। শুধুমাত্র সদর উপজেলাতেই নয়, বাকি ৮টি উপজেলার চিত্র একই রকম। উপজেলা গুলোতে কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও নতুন কমিটি করার কোন লক্ষন নেই। ফলে দলের অনেক নেতাই এখন ক্ষমতাসীন দলে ভিড়তে বাধ্য হচ্ছে। দলের অনেক প্রভাবশালী নেতা আওয়ামী লীগে যোগদান করেছে। যোগদানের ‘পাইপ লাইনে’ রয়েছে বেশকিছু নেতা। অচিরেই তারা আওয়ামী লীগে যোগ দিতে পারেন বলে ধারনা করছেন দলের সিনিয়র নেতারা। বিএনপির সদ্য বিলুপ্ত হওয়া কমিটির প্রভাবশালী তিন নেতা জানান, ফরিদপুর সাংগঠনিক বিভাগের দায়িত্বে যারা রয়েছেন তাদের উদাসিনতার কারনেই দল ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। যে তিন নেতার উপর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ফরিদপুর জেলা বিএনপিকে শক্তিশালী করতে তারা তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। মূলত তাদের কারনেই দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও নতুন কমিটি ঘোষনা করা যাচ্ছেনা। স্থানীয় তৃনমূল নেতা-কর্মীরা জানান, বিএনপির মতো একটি দলের জেলা কমিটি নেই ৫ মাস যাবত। ফলে দল যে টিকে রয়েছে তাও বা কম কি। তাদের অভিমত, গুটি কয়েক নেতার কারনেই আজ ফরিদপুরে বিএনপির বেহালদশা। পরীক্ষিত ও ত্যাগ তারুন্যনির্ভর নেতাদের নিয়ে কমিটি করা হলে ফের ফরিদপুর জেলা বিএনপির পুর্নজাগরন হবে। তৃনমূল নেতা-কর্মীরা জানান, দলের বড় কয়েকজন নেতার কারনে দল ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। কর্মীরা এখনও ঠিক আছে। শুধু তারা একজন যোগ্য নেতার প্রতিক্ষায় রয়েছেন। যে নেতা তার ম্যাজিক দেখিয়ে ঘুমন্ত কর্মীদের জাগিয়ে তুলতে পাবরেন। জেলা বিএনপির সদ্য বিলুপ্ত কমিটির একনেতা জানান, ৫ মাস ধরে বিএনপির কমিটি না থাকায় যে ক্ষতি হয়েছে তা বিগত ৫ বছরের তা হয়নি। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় নেতাদের এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে দ্রুত কমিটি দেবার বিষয়ে। নইলে যে কয়জন নেতা এখনও বিএনপিতে রয়েছেন তারাও হারিয়ে যাবেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর