সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২০, ০৬:২৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ধর্ষকদের হাত থেকে বাঁচতে লঞ্চ থেকে তরুণী’র মেঘনায় ঝাঁপ একনেকে ২৭৪৪ কোটি টাকার ৯ প্রকল্প অনুমোদন টাইগারদের মাঠে ফেরাতে দেশের আটটি ভেন্যু প্রস্তুত করেছে বিসিবি নগরকান্দার লস্করদিয়া কালীবাড়ী বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড নগরকান্দায় আইফার পক্ষ থেকে মাস্ক বিতরণ ফরিদপুরের শ্রমিকদের কল্যানে নিবেদিত প্রাণ গোলাম মোঃ নাছির সালথায় এক গাঁজা চাষী আটক! খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সহধর্মিণীর সুস্থতা কমনায় লন্ডনে দোয়া ও আলোচনা সভা। সালথায় “আমার রক্তে বাঁচুক প্রান” সেচ্ছায় রক্তদান সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের নগরকান্দার বাঁশাগাড়ি-ভবুকদিয়া দেড় কিলোমিটার সড়ক সংস্কারে ধীরগতি স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে এলাকাবাসী ও পথচারী

ইসলামী শরিয়তের দলিল কোরআন হাদিস ইজমা কেয়াস, মক্কা মদিনা ইসলামের দলিল নয়

মাওলানা মোঃ সাইফুল ইসলাম ফরিদপুরী / ৩৬৬ বার পঠিত
প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২০

 

পৃথিবীতে ইসলামের অনুসারী প্রায় সকলে চার ইমামের কোন এক ইমামকে অবশ্যই অনুসরন করে। আর এই ইমামদের নির্দেশিত পথকে মাযহাব বলা হয়। চারও মাযহাবের সকল উলামায়ে কেরামের ঐক্যমতে ইসলামের দলীল চারটিঃ

১। কোরআনুল কারিম ২। হাদীসুন নাবাবী ৩। ইজমা ৪। কিয়াস

আমি এখন এই চারটি বিষয়কে কোরআন ও হাদীসের মাধ্যমে প্রমাণ করার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ

কুরআন

আমরা দুই চোখে যা কিছু দেখি বা না দেখি সব কিছুই আল্লাহ তায়ালার সুতরাং জগত যার বিধান চলবে তাঁর যেমনটা আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, إن الحكم إلا لله অর্থঃ বিধান দেয়ার ক্ষমতা কেবল আল্লাহর। আল্লাহ তায়ারা তাঁর বিধানাবলী মানুষকে জানিয়েছেন কোরআনের মাধ্যমে। সুতরাং কোরআন যে শরিয়তের দলীল হবে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

হাদীস

আল্লাহ তায়ালা মানুষের নিকট তার বিধানাবলী পৌছেছেন কোরআনের মাধ্যমে। আর কোরআন যেহেতু একটি মুজেঝাহ তাই তার অর্থ মানুষের বোধগম্য না হওয়াই স্বাভাবিক। এজন্য আল্লাহ তায়ালা গাইড হিসাবে নবী, রাসুলদেরকে প্রেরণ করেছেন। নবী, রাসূলগণ মানুষের কাছে আল্লাহর কিতাবের ব্যাখ্যা করতেন। এমনকি আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহি আসার পূর্বে কোন কথা বলতেন না। সুতরাং তাদের কথা শরিয়তের দলীল হওয়াও স্বাভাবিক। তারপরও আমরা চারটি আয়াত পেশ করছি।

১। يا أيها الذين آمنوا اطيعوا الله و اطيعوا الرسول অর্থ হে ইমানদ্বারগণ! তোমরা আল্লাহ এবং তার রাসূলের আনুগত্য করো।

২।ما آتاكم الرسول فخذوه و ما نهاكم عنه فانتهوا রাসূল তোমাদের নিকট যা নিয়ে এসেছেন তা গ্রহণ করো। আর যা থেকে বারণ করেছেন তা থেকে বিরত থাকো। সূরা হাশর ৭

৩।من يطع الرسول فقد أطاع الله  অর্থ যে আল্লাহর রাসূলের আনুগত্য করলো সে আল্লাহরই আনুগত্য করলো। সূরা নিসা ৮

৪।و ما ينطق عن الهوي إن هو إلا وحي يوحي  অর্থ তিনি অর্থাৎ মুহাম্মাদ নিজের ইচ্ছায় কিছু বলেন না (তিনি যা বলেন) তা কেবল তার নিকট প্রেরিত ওহি।

 

ইজমা তথা হক্কানী উলামায়ে কেরামের ঐক্যমত

উম্মতে মুহাম্মাদী হলোخير أمة  তথা উত্তম জাতি। আর তারা উত্তম হবার কারনে আল্লাহ তাদের ঐক্য মতকেও দলীল সাব্যস্ত করেছেন। যার দলীল কোরআন ও হাদীসে যথেষ্ট পরিমানে রয়েছে। আমরা নয়টি দলীল উল্লেখ করছ। দুাটি কুরআন থেকে, বাকি সাতটি হাদীস থেকে।

১।و من يشاقق الرسول من بعد ما تبين له الهدى و يتبع غير سبيل المؤمنين نوله ما تولى و نصله جهنم  অর্থ সঠিক পথ স্পষ্ট হবার পর যে ব্যক্তি রাসূলের বিরোধিতা করবে এবং মুমিনদের (অনুসৃত) পথ ছাড়া অন্য পথ অনূসরণ করবে সে যেদিকে যায় আমি তাকে সে দিকেই নিয়ে যাবো এবং পরিশেষে আমি তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব।

২। واعتصموا بحبل الله جميعا و لا تفرقوا অর্থ তোমরা আল্লাহর রশিকে শক্ত ভাবে আকড়ে ধরো, বিক্ষিপ্ত হয়ে যেয়োনা।

৩।فال رسول الله ص لا تجتمع أمتي علي الضلالة  আমার উম্মত কখনো ভ্রান্তির উপর একমত হবেনা।

৪।لم بكن الله لتجتمع امتي علي الضلالة  আল্লাহ তায়ালা আমার উম্মতকে ভ্রান্তির উপর এক মত হতে দিবেন না।

৫।ما رآه المؤمن حسنا فهو عند الله حسنا  (অধিকাংশ) মুমিনের নিকট যেটা উত্তম আল্লাহর নিকটেও সেটা উত্তম।

৬।عليكم بالسواد الأعظم  তোমাদের জন্য আবশ্যক হলো বড় দল কে আকড়ে ধরা।

৭।يد الله مع الجماعة  জামাতের উপর আল্লাহর হাত।

৮।من خرج من الجماعة قدر شبر جلع ربتة الإسلام عن عنقه  যে জামাত থেকে এক চুল পরিমাণ সরে গেল সে তার গলা থেকে ইসলামের রশি খুলে ফেলল।

কিয়াছ

কিয়াছ শরিয়তের দলীল প্রমাণও শরিয়তের অনেক রয়েছে। আমরা তিনটি পেশ করছিঃ

১।فاعتبروا يا أولي الألباب  হে জ্ঞানীরা উপদেশ গ্রহণ করো

২।إذا تنازعتم في شئ فردوه إلي الله و رسوله  যখন তোমাদের মাঝে কোন বিষয়ে বিভেদ দেখা দেয় তখন তা আল্লাহ এবং তার রাসূলের নিকটে পেশ করো।

৩।قال رسول الله صلي الله عليه و سلم لابن مسعود اقض بالكتاب و السنة اذا وجدتهما فان لم تجدهما فاجتهد برئيك  নবী কারীম সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইবনে আব্বাসকে বলেছেন হে ইবনে আব্বাস! তুমি বিচার করবে আল্লাহর কিতাব ও নবীর সুন্নাহ দ্বারা যখন তুমি তাতে পাবে আর যদি সেখানে না পাও তাহলে নিজের মত অনুযায়ী ইজতিহাদ করবে।

এই চারটি বিষয় ছাড়া অন্য কোন কিছু শরিয়তের দলীল নয়। নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তি বা স্থান কখনো শরিয়তের দলীল হতে পারেনা। এমনকি যদি নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবুয়ত না পেতেন তাহলে তার কথাও শরীয়তে দলীল  হতো না । তার কথা শরীয়তের দলীল একারণেই যে, তাকে নবুয়ত দেয়া হয়েছে। এবং নবুয়তপ্রাপ্তির পর তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহি আসা ছাড়া কোন কথা বলেন নি। তাই তো হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নবুয়তপ্রাপ্তির পূর্বের চল্লিশ বছরের আমল বা কথা শরিয়তের দলীল নয়।

যেখানে নবুয়ত না হলে নবীর কথাই দলীল হতে পারে না। সেখানে অন্য কোন ব্যক্তির কথা বা কাজ – সে ব্যক্তি পীর হতে, পরে বযুর্গ হতে পারে, ইমাম হতে পারে এমনকি পবিত্র মক্কা-মদিনার ইমাম হতে পারে, সে সব কিছুই হতে পারে কিন্তু তার কথা বা কাজ কিছুতেই শরিয়তের দলীল হতে পারে না।

ঠিক তদ্রুপ কোন স্থানেও শরিয়তের দলীল না। আমরা কাবাকে সম্মান করি না বরং কাবার মাধ্যমে আামরা আল্লাহকে সম্মান করি। এবং যদি কাবার সাথে আল্লাহর নাম সম্পৃক্ত না হতো এবং  কাবাকে বাইতুল্লাহ না বলা হতো তাহলে কখনই আমরা কাবাকে সম্মান করতাম না।

আমরা কাবাকে সিজদাহ করি না বরং কাবামুখী হয়ে আল্লাহকে সিজদাহ করি। ফতোয়ায়ে শামীসহ অন্যান্য সকল ফতোয়ার কিতাবে স্পষ্টভাবে লেখা আছেالسجدة لنفس الكعبة كفر  অর্থ নিছক কাবাকে সিজদাহ করা কুফুরী।

সুতরাং বুঝা গেল নিছক স্থানেরও কোন কোন দাম নেই। কাবা বাইতুল্লাহ না হলে তারও কোন দাম ছিল না। তাই আসুন কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তি, স্থান ও দেশকে দলীল বানানোসহ সব রকমের ভন্ডামি ছেড়ে আমরা ইসলামের দিকে ফিরে যাই। আল্লাহ তায়া’লা আমাদের তাওফিক দান করুন।

লেখকঃ

মাওলানা সাইফুল ইসলাম ফরিদপুরী

যুগ্ন সাধারন সম্পাদক, হেফাজতে ইসলাম, ফরিদপুর জেলা শাখা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর